ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের এসএসসি ২০২১ সালের সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমাদের সাথে আজ আলোচনা করবো এসএসসি ২০২১ সালের ৭ম সপ্তাহের ব্যবসা উদ্যোগ অ্যাসাইমেন্টের সমাধান নিয়ে। আজকের আলোচনার নির্ধারিত বিষয়- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ।
এসএসসি ২০২১ সালের ৭ম সপ্তাহের ব্যবসা উদ্যোগ অ্যাসাইমেন্ট এর বাছাইকরা সমাধান/ উত্তর
তোমাদের বোঝার সুবিধার্থে এই আর্টিকেলের প্রথম অংশে অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী অংশে ধারাবাহিকভাবে উত্তর দেয়া হয়েছে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারণা
জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৫৭তম অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ‘মানবিক উন্নয়ন সূচকে টেকসই ক্রমোন্নতিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’
আর্থ সামাজিক বলতে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও সামাজিক জীবন এর মাঝে সম্পর্ককে বুঝায়। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে জিডিপি, জীবনমান, শিক্ষার হার এবং শ্রমিকের স্তরের উন্নতি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তি তার জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেসব কার্যাবলিতে লিপ্ত হয়, সেসব উপাদানই হলাে আর্থ–সামাজিক উন্নয়ন।
সমবায় সমিতির ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
সমবায় সমিতির অর্থ সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সহজ অর্থে সমবায় বলে। প্রকৃত অর্থে একই শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় সংঘবদ্ধ হয়ে সম অধিকারের ভিত্তিতে সমবায় আইনের আওতায় যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তােলে তাকে সমবায় সংগঠন বলা হয়ে থাকে। সকলের তরে সকলে , একতাই বল , স্বাবলম্বনই শ্রেষ্ঠ অবলম্বন হলাে হেনরি কালভার্ট বলেছেন , “ সমবায় হলাে এমন একটি সংগঠন যার ফলে সমবায় ভিত্তিতে অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে একত্রিত হয়।
উপरोक्त আলােচনা হতে আমরা সমবায় সমিতির নিম্নোক্ত ধারণা পাই :
১. সমবায় সমাজের কম বিত্ত সম্পন্ন মানুষের সংগঠন ;
২. সমশ্রেণী বা সমপেশার কতিপয় ব্যক্তি এরূপ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে ;
৩. এর উদ্দেশ্য হলাে সদস্যদের অর্থনৈতিক কল্যান সাধন করা ; এবং
৪. সমবায় আইনের আওতায় এরূপ প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করা হয়।
পরিশেষে বলা হয় , পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণের লক্ষ্যে একই এলাকার সমশ্রেণীভুক্ত সমমনা কিছু ব্যক্তি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় যে গণতান্ত্রিক রীতি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলে তাকে সমবায় সমিতি বলে। বাংলাদেশে বর্তমানে ২০০১ সালের সমবায় আইন ও ২০০৪ সালের সমবায় সমিতির বিধিমালার আওতায় এরূপ সমিতি গঠন ও পরিচালনা করা হয়।
সমবায় সমিতির প্রকারভেদ ব্যাখ্যা
বিত্তহীন বা নিম্নবিত্ত সম্পন্ন হলো সমবায় সমিতি। এ বিত্তহীন মানুষগণ জীবিকা অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। তাই তাদের অভাবও বিভিন্ন রকমের। এর বিভিন্ন অভাব পূরনের লক্ষ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের সমবায় সমিতি।
১. ক্রয় সমবায় সমিতি :
কোন এলাকার কুটির শিল্পের মালিকগণ বা ক্ষুদ্র পুঁজির সমজাতীয় ব্যবসায়ীগণ তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণাদি এক সাথে অধিক পরিমাণে ক্রয়ের সুবিধা অর্জনের জন্য যে সমিতি গঠন করে তাকে ক্রয় সমবায় সমিতি বলে। এরূপ সমিতির সদস্যগণ সরাসরি উৎপাদক বা তার প্রতিনিধি কিংবা পাইকারদের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে উপকরণাদি ক্রয়ের সুবিধা ভোগ করে।
২. বিক্রয় সমবায় সমিতি :
একই ধরনের পণ্য উৎপাদনে নিয়ােজিত কোন এলাকার স্বল্প পুঁজির উৎপাদকগণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক সুবিধা ভােগের জন্য যে সমিতি গঠন করে তাকে বিক্রয় সমবায় সমিতি বলে। এরূপ সমিতি গঠনের ফলে সমবায় মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম থেকে রক্ষা পায় এবং নিজেরা সুবিধাজনক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে পারে তাছাড়া এ সমিতি উৎপাদক সদস্যদের মধ্যে প্রতিযােগিতা হ্রাস করে।
৩. সমবায় ঋণদান সমিতি :
সমাজের নিম্নবিত্ত সম্পন্ন মানুষ প্রয়োজনে যেন সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করতে পারে এজন্য যে সমবায় সমিতি গঠন করা হয় তাকে সমবায় ঋণদান সমিতি বলে।
৪. সঞ্চয় সমবায় সমিতি :
সঞ্চয় সমবায় সমিতি বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয় প্রকল্প পরিচালনা করে এবং সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই সমিতিগুলো সাধারণত সদস্যদের মধ্যে আমানত গ্রহণ করে এবং সেই অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতির গুরুত্ব
সমবায় সমিতিগুলো স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে এবং সদস্যদের মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক। এগুলোর মাধ্যমে সদস্যরা ঋণ, সঞ্চয় এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক।
সমবায় সমিতি দূরীকরণের উপায়
সমবায় সমিতির সমস্যা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের সহযোগিতা।




