আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট কর্তৃক এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের উপর তদন্ত
১৬টি এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) ও ৩০টি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করফাঁকি ধরতে তদন্ত শুরু করেছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইআইইউ)। চলতি মাসের শুরুতে তাদের ব্যাংক হিসাব ও যাবতীয় আর্থিক হিসাবের তথ্য চেয়ে দেশের ব্যাংকগুলোয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এয়ার টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আয়কর গোয়েন্দাও তাদের কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের বিষয়বস্তু
সূত্রটি জানিয়েছে, সৌদি এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারলাইনস, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, গালফ এয়ারলাইনস, আমিরাত এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া, জাজিরা, ফ্লাইট দুবাইসহ মোট ১৬টি এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্টের (জিএসএ) পরিচালক ও তাদের পরিবারের কর ফাইল পর্যালোচনা করছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। একই সঙ্গে জিএসএদের ম্যানেজারদের কর ফাইলও তদন্ত করা হচ্ছে।
ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে কাজী এয়ার, কিং এয়ার এভিয়েশন, আরবিসি ইন্টারন্যাশনাল, সাদিয়া ট্রাভেলস, হাজি এয়ার, ফ্লাই ফেয়ার ও গ্যালাক্সি ট্রাভেলসসহ মোট ৩০টি ট্রাভেলস মালিকের কর ফাইলও তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তে আলোচিত নাম
সূত্রটি সৌদিয়া এয়ারলাইনসের জিএসএ ইউনাইটেড লিংক লিমিটেডের এমডি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ, তার স্ত্রী জাজিরা জিএসএ জেড এভিয়েশনের মেরিনা আহমেদ, সালাম এয়ারের জিএসএ এমএ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদি এবং সাদিয়া ট্রাভেলস ও মিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ রৌশন আলীর নাম জানালেও বাকিদের নাম প্রকাশ করেনি।
তদন্তের ফলাফল
আয়কর গোয়েন্দা এরই মধ্যে আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদের বিপুল পরিমাণ করফাঁকির তথ্য খুঁজে পেয়েছে। তিনি ৬০ কোটি টাকায় জমি কিনে রেজিস্ট্রি করেছেন ৭ কোটি টাকায়। তার প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকেই এসব টাকা পরিশোধ করেছেন।
যোগাযোগে অগ্রহারা
আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব বলেন, ‘প্রবাসীদের কল্যাণে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। আয়কর আইন অনুযায়ী আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অতিরিক্ত তথ্য
আয়কর গোয়েন্দার চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব করদাতা ও তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের (প্রোপ্রাইটরশিপ) নামে ব্যাংকে বা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত বা রক্ষিত যেকোনো মেয়াদি আমানত হিসাব (এফডিআর ও এসটিডি হিসাবসহ যেকোনো ধরনের বা নামের মেয়াদি আমানত হিসাব), যেকোনো ধরনের বা মেয়াদের সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, লকার বা ভল্ট, যেকোনো ধরনের বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যেকোনো ধরনের সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিট স্কিম বা অন্য যেকোনো ধরনের বা নামের হিসাব পরিচালিত বা রক্ষিত হিসাবগুলোর ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ বিবরণী ও ঋণের বিপরীতে রক্ষিত জামানতের বিবরণী বা ঋণ মঞ্জুরিপত্রের তথ্য সাত কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।




