Whatsup Today

Multiverse Of Blogs 2025

বিজ্ঞান

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ কিছু Apps || মোবাইল স্লো হলে করনীয়।

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ

সূচিপত্র

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ খুজে পাওয়া যায় না অনেকেই। আমরা অনেকেই স্মার্টফোন কিনি বিভিন্ন প্রয়োজনে। কেউ ছবি তোলার জন্য, কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য আবার কেউবা কেবল ইউটিউব দেখতে। কিন্তু নতুন ফোন কেনার কিছুদিন পরই যদি সেটি স্লো হয়ে যায়, তখন সেটি বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। মোবাইল ধীরগতির একটি অন্যতম কারণ হলো কিছু বিশেষ অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যবহার। যেসব অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকে এবং ফোনের ব্যাটারি ও মেমোরি অতিরিক্ত খরচ করে, সেগুলো বন্ধ না করলে ফোন ধীরগতির হয়। এখানে এমন কিছু অ্যাপ এবং সমস্যাগুলোর সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ কিছু Apps

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ হলো:

  1. স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকা অ্যাপ – অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে এবং মেমোরি ও ব্যাটারি খরচ করে।
  2. ইনস্টল করা ব্লোটওয়্যার – নতুন ফোনে আগে থেকে ইনস্টল করা কিছু অ্যাপ থাকে যা ব্যবহার না করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে থাকে।
  3. অনলাইন অ্যাপের স্থানানুযায়ী পরামর্শ – অনেক অ্যাপ যেমন ইউটিউব, নেটফ্লিক্স আপনার অবস্থান ও আগ্রহের উপর ভিত্তি করে ভিডিও দেখার পরামর্শ দেয়। এর জন্য তারা মেমোরি এবং ইন্টারনেট ডেটা বেশি ব্যবহার করে।
  4. স্থানানুযায়ী সেবা প্রদানকারী অ্যাপ – গুগল ম্যাপস বা অ্যাপল ম্যাপসের মতো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও আমাদের অবস্থান শনাক্ত করতে থাকে এবং তা ব্যবহার করে।

মোবাইল স্লো হওয়ার জন্য দায়ী অ্যাপ

১. স্ন্যাপচ্যাট

স্ন্যাপচ্যাট একটি জনপ্রিয় বার্তা বিনিময় অ্যাপ। এটি গোপনে সব সময় চালু থাকে এবং ব্যবহারকারীর অবস্থান সংগ্রহ করতে থাকে। ফলে ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। লাইভ লোকেশন বন্ধ করার জন্য, স্ন্যাপচ্যাটের Settings-এ গিয়ে ‘Ghost Mode’ চালু করতে হবে।

২. ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক প্রায় সবাই ব্যবহার করেন। এই অ্যাপটি চালু না থাকলেও ব্যবহারকারীর সব তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এটি ফোনের মেমোরি ও ব্যাটারি খরচ করে। ফোনের গতি ঠিক রাখতে ফেসবুকের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিৎ।

৩. মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম

ফেসবুকের মতোই মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপগুলো সব সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এগুলো গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে এবং মেমোরি ও ব্যাটারি খরচ করে। ব্যাটারির স্থায়ীত্ব বজায় রাখতে এই অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ রাখা ভালো।

৪. ইউটিউব ও নেটফ্লিক্স

ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য ইউটিউব ও নেটফ্লিক্স জনপ্রিয়। কিন্তু এই অ্যাপগুলো ফোনের ব্যাটারি ও মেমোরি বেশি খরচ করে। এগুলোর মাধ্যমে অনলাইন ভিডিও দেখার সময় ইন্টারনেট ও মেমোরির ব্যবহার বাড়ে, ফলে ফোন স্লো হয়ে যায়।

৫. গুগল ম্যাপস ও অ্যাপল ম্যাপস

গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপস অ্যাপগুলো ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে অবস্থান সংগ্রহ করতে থাকে। এর ফলে ফোনের মেমোরি ও ব্যাটারির চাপ বাড়ে।

৬. ক্লিন মাস্টার এবং অন্যান্য ক্লিনিং অ্যাপ

অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছতে আমরা অনেকেই ক্লিন মাস্টারসহ বিভিন্ন ক্লিনিং অ্যাপ ব্যবহার করি। যদিও এই অ্যাপগুলো ফোনের মেমোরি পরিষ্কার করে, কিন্তু এগুলোর গোপনে তথ্য সংগ্রহের প্রবণতা রয়েছে। ফলে ফোন স্লো হয়ে যায়।

মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান

১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আন-ইনস্টল করা

যেসব অ্যাপ ব্যবহৃত হয় না, সেগুলো আন-ইনস্টল করুন।

২. ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করা

Settings > Connections > Mobile Data Usage থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন।

৩. ক্যাশ ক্লিয়ার করা

Settings > Apps & Notifications থেকে ক্যাশ ফাইল মুছুন।

৪. ব্লোটওয়্যার নিষ্ক্রিয় করা

Settings > Apps থেকে প্রয়োজনীয় ব্লোটওয়্যার অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করুন।

টিপস: কীভাবে স্মার্টফোনকে দ্রুতগতি বজায় রাখবেন

করণীয় বিবরণ
ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করা Settings > Connections > Mobile Data Usage থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন।
ক্যাশ ক্লিয়ার করা Settings > Apps & Notifications থেকে ক্যাশ ফাইল মুছুন।
ব্লোটওয়্যার নিষ্ক্রিয় করা Settings > Apps থেকে প্রয়োজনীয় ব্লোটওয়্যার অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করুন।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আন-ইনস্টল করা যেসব অ্যাপ ব্যবহৃত হয় না, সেগুলো আন-ইনস্টল করুন।

স্মার্টফোন ধীরগতির প্রধান কারণ হলো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা কার্যক্রম। সঠিকভাবে অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ফোনের গতি বাড়াতে পারি এবং ফোনকে দীর্ঘ সময় কার্যক্ষম রাখতে পারি। এরকম তথ্য আরোও পেতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটের পোষ্টগুলো পড়ুন।

LEAVE A RESPONSE

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

হোয়াটসআপ টুডে-র একজন নিয়মিত লেখক ও প্রযুক্তি পর্যবেক্ষক। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখি আমার পেশা ও নেশা। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ প্রতিদিনের টেক-নতুনত্ব, আপডেট, নিরাপত্তা টিপস ও ব্যবহারকারীদের সুবিধার দিকগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা আমার মূল লক্ষ্য।