## নারায়ণগঞ্জ: রাজনীতি ও ব্যবসার জটিল জাল
**নারায়ণগঞ্জের** শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এটি সম্প্রতি এক দশক ধরে ওসমান পরিবারের হাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বলয়ে পরিণত হয়েছে। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান—এই দুই সদস্যের পরিবারটির প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে, যা গার্মেন্টস, শিপিং, পরিবহন ও আবাসন খাতে বিস্তৃত।
**ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও ওসমান পরিবারের প্রস্থানের প্রেক্ষাপট**
২০১৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ওসমান পরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এই সময় শেখ হাসিনা সরকারও পতনশীল ছিল। কিন্তু তাদের পালিয়ে যাওয়ার আগে থেকেই শামীম ওসমানসহ পরিবারের সদস্যরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে প্রভাবশালী অংশীদারিত্ব তৈরি করেছিলেন।
**নতুন অংশীদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব**
* **বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক:** শামীম ওসমান তাঁর গুলশান এলাকার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে। এই সম্পর্ক তাঁর ব্যবসায়িক প্রভাবকে আরও বাড়িয়েছে।
* **গাজী গ্রুপের凋ঁ FALL:** আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা গোলাম দস্তগীর গাজী, যিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, কারাগারে আছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর কারখানাগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং বাকি থাকাগুলোও গত আট মাস ধরে বন্ধ। তিনি এখন বন্ধ কারখানাগুলো সচল করার জন্য অংশীদার খুঁজছেন।
* **স্থানীয় বিএনপির বিভেদ:** গাজী গ্রুপের অংশীদারিত্বের সন্ধানে স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিবাদ চলছে, যা নতুন অংশীদারিত্ব নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করছে।
**কুমিল্লার ব্যবসায়ী নেতারাও অংশীদার খুঁজছেন**
* **আবু জাফর শফিউদ্দিন:** কুমিল্লা-৮ আসনের নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্য আবু জাফর মো. শফিউদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা। তিনি সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং এখন অংশীদার খুঁজছেন।
* **নসরুল হামিদ বিপু:** বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন শিল্প ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেছেন এবং তাঁর কোম্পানিগুলো এখনও ব্যবসা পরিচালনা করছে।
**বহু млрд টাকার বিনিয়োগকারীদের জটিলতা**
নারায়ণগঞ্জের বহু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা—যেমন তাজুল ইসলাম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, নসরুল হামিদ বিপু, হাছান মাহমুদ, আমিনুল ইসলাম—বর্তমানে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য অংশীদার খুঁজছেন। তাঁদের বিনিয়োগের প্রায় সব ক্ষেত্রেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে।
**রাজনীতি ও ব্যবসার মিশ্রণ**
আওয়ামী লীগের অনেক নেতা—স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে—বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সফল হয়নি, আবার অনেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিকে আছেন। তাঁদের প্রায় সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান।
**বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারীদের চ্যালেঞ্জ**
নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এখন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের বিনিয়োগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্থবির হয়ে পড়েছে, এবং অনেকে পরিবার ও ব্যবসার জন্য বিদেশি অর্থ পাচার করে নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করছেন। তাঁদের এই জটিল পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জকে রাজনীতি ও ব্যবসার একটি জটিল জালের মধ্যে আবদ্ধ করেছে।




